ঢাকা, রবিবার, ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১:৫০
বাংলা বাংলা English English

রবিবার, ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নারী উদ্যোক্তাকে ধর্ষনের অভিযোগ


অভিযুক্ত শাহীন আলম: ফাইল  ছবি!

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মানবাধিকারকর্মী ও নারী উদ্যোক্তাকে বিয়ের আশ্বাসে দেড় বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহীন আলমের (৩২) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার (৫ মে) শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অভিযুক্তের ছবি সংযুক্ত করে সুবিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন জানিয়ে পোস্টও করেছেন।

অভিযুক্ত শাহীন আলম গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া (নগর হাওলা) গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী তৃণমূলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশু ও নারী অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশি-বিদেশি পুরস্কারও পেয়েছেন। ইউরোপের একটি দেশে ভ্রমণ করে সেখান থেকেও পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। এসব কাজের পাশাপাশি তিনি এলাকায় কনজ্যুমার ফুড আইটেম ও কসমেটিকসের ব্যবসা করেন।

থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালের প্রথম দিকে শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তিনি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক নানা কর্মসূচি করেছেন। সে সময় অভিযুক্ত শাহীন আলম তাকে ফলো করতে থাকে। গত বছরের ৮ জুলাই মধ্যরাত ১টার দিকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে বার্তা আদান-প্রদান করে ও দেখা করতে বলে। পরদিন বিকাল ৪টার দিকে দেখা করতে রওনা হলে সন্ধ্যায় যেতে বলে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে গেলে শাহীন আলম মোবাইল তাকে অফিসে ডেকে নেয়। সেখানে একপর্যায়ে ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগীর দাবি, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে মামলা থেকে বিরত থাকেন। অভিযুক্তকে সে সময় গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের পদ-পদবীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কাবিন একটি বাধা হতে পারে বলে কাবিন রেজিস্ট্রি পরে করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মেলামেশা করে। কৌশলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা তিন লাখ টাকা নিয়েছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় শাহীন আলম ও বুধবার (৪ মে) আনুষ্ঠানিক বিয়ে করে।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আইনজীবী মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ভিকটিম আমার পরিচিত। ঘটনার কিছু সময় পর সে আমার কাছে শাহীন আলমের মাধ্যমে অপমানিত এবং লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ করে। পরে দুই পক্ষকে ডেকে আনলে শাহীন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে। বয়সে ছোট হওয়ায় তারাও কোনও বিষয় আমাকে খুলে বলেনি এবং দুই জনেই পূর্ণ বয়স্ক হওয়ায় আমিও তাদের গোপনীয়তার বিষয়ে আগ্রহী হইনি। পরে ভুক্তভোগী জানায়, তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে গেছে। কিন্তু কী কারণে বা কার প্ররোচনায় অভিযোগের বর্ণনায় আমাকে আনা হলো তা বুঝতে পারছি না।’

সদ্য বিলুপ্ত গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন জানান, অভিযুক্ত শাহীন আলম তার কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। বিষয়টি তিনি যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন। এরকম হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলে আইনি উপায়ে তার শাস্তি হওয়া দরকার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমিতিয়াজ ভূঁইয়া অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীকে নারী ও শিশু আদালতের মাধ্যমে আইনের আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহীন আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

সব খবর