ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, রাত ৮:৫৩
বাংলা বাংলা English English
শিরোনাম:

বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে ডিসি’কে অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিলসহ হুইপ স্বপনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন-অবসর চৌধুরী (ভিডিও)


জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.সামছুল আলম দুদুকে অবমাননার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক ও জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অপসারণ দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা।

গত বুধবার দুপুরে পৌর শহরের শহীদ ডাঃ আবুল কাশেম ময়দান থেকে জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও পূর্নবাসন সম্পাদক মাহমুদ হোসেন হিমু’র নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চত্বরে পৌঁছালে সেখানে পুলিশের বাঁধায় মিছিটি ফিরে নিয়ে যায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও আইসিও ইউনিট উদ্ভোধন কালে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতালের সভাপতি এ্যাড.সামসুল আলম দুদুকে আমন্ত্রণ না দেওয়ার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসক ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরূদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যার্থ ডিসি শরীফুল ইসলাম কে অপসারণ করতে হবে করতে হবে ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের গালে গালে জুতা মারো তালে তালে, এমন স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন ব্যানার, ফেষ্টুন,হাতে নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোপ মিছিল করে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ স্বেচ্ছাসেবকলীগের বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দরা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জানান, হাসপাতালে আমি অতিথি ছিলাম। আয়োজন করেছিলো হাসপাতাল কতৃপক্ষ, এটি তাদের বিষয়।

জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডাঃ সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, আমি হাসপাতালের সভাপতি ও এমপি সাহেবকে আমি দাওয়াত দিয়েছি কিন্তু তাদের মধ্যে রাজনৈতিক অভ্যন্তরীন কন্দোলের কারণে তারা এক গ্রুপ আসলেও আর এক গ্রুপ অনুষ্ঠানে আসেনি।

মিছিল শেষে জয়পুরহাট পৌর কমিনিটি সেন্টারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ পুনঃমিলনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,জাতীয় সংসদের হুইপ ও জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন-এমপির ইতিহাস ও বর্তমানসহ বিভিন্ন দিক তুলেধরে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক,আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,সাবেক আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র ও সাবেক রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর৷

তিনি তার বক্তব্যে হুইপ স্বপনকে অহংকারী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে তার অতিথ জীবনে অভাবের কথা তুলে ধরে বর্তমানে তার অর্থের পরিমাণ কতো এবিষয়ে তদন্তেরও দাবী জানান তিনি। পরিশেষে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর হুইপ স্বপনের নির্বাচনী জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ নির্বাচন করবেন বলেও ঘোষণা করেন গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর। তার এমন বক্তব্যের পরথেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

হুইপ স্বপনকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করে বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বর্তমান জয়পুুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম- সম্পাদক,আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হুইপ সাবেক কে নিয়ে আমার দেয়া বক্তব্যটি ইতিমধ্যে আপনারা ফেইসবুকে দেখেছেন এবং শুনেছেন। আমি বক্তব্যে যা বলেছি তাই চিরসত্য। তিনি আরও বলেন আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান আমি জন্মসূত্রে আমি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি।

তিনি বলেন আমার বাবা মহরম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল চৌধুরীর ব্যাপক সমর্থন ছিলো এবং বারবার কারাভোগসহ রুকিন্দিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমার বাবার এমন সমর্থন থাকায় তৎকালীন সময়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাত্রি যাপন করে আমার বাবা’কে আওয়ামীলীগ থেকে বিএনপিতে যোগদান করতে বলেন এবং বিএনপির এমপি-মন্ত্রী হওয়ার পস্তাব দিলে আমার বাবা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে।

জিয়াউর রহমান ফিরে যাওয়ার পরেই আমার বাবার নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশ ত্যাগ করাতে বাধ্য করেন। তার সূত্রধরে আমি ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আজ এ পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং আগামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। আমার বিশ্বাস আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার রাজনৈতিক পরিশ্রমের সকল বিষয় যাচাই বাছাই করে ইনশাআল্লাহ এবার আমাকেই জয়পুরহাট-২ আসন থেকে মনোনীত করবেন বলে তিনি জানান। আরও বিস্তারিত আসছি–

সব খবর