ঢাকা, রবিবার, ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১২:৪৪
বাংলা বাংলা English English

অসহায়দের আস্থা এখন পউস


পত্নীতলা উপজেলা সমিতি ( পউস ) বর্তমানে অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের আস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এই সামাজিক সংগঠনটি রাজশাহী বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের আস্থার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সুবিধাভোগী মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়, পউস তাদের পাশে ছিলো বলেই তারা মানবেতর জীবন থেকে উন্নত স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ রূপে একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সুবিধাভোগী পত্নীতলা উপজেলার গুপিনগর এলাকার আব্দুস সামাদ এর ছেলে মো: আলতাফ হোসেন জানান, আমি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা অন্তে জানান, আমার হার্ডের দুটি ভাল্ব নষ্ট হয়েছে এবং জরুরী অপারেশন প্রয়োজন।অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় বিছানায় ছিলাম চার মাস। এমতবস্থায় পউস সর্বপ্রথম পাশে এসে দাঁড়াই এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমার অপারেশর ও চিকিৎসা বাবদ প্রায় চার লক্ষ টাকা ও তাদের সার্বিক প্রচেষ্টা ও সহযোগীতায় আমি আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি। অপর আরেক মুবিধাভোগী অত্র উপজেলার পত্নীতলা খাদ্যগুদাম পাড়ার গণেশ জমাদারের দ্বিতীয় ছেলে শ্রী অন্তর কুমার জানান, আমার ইচ্ছে ছিল আমি একজন ক্রিকেটার হব। কিন্তু হঠাত একদিন জাম গাছ থেকে ডার ভেঙে পড়ে আমার কমোরের ইস্পেইনাল কর্ড ছিরে যায়।বিনা চিকিৎসায় বিছানায় পড়ে ছিলাম ৩৭ দিন। এমতবস্থায় পউস সর্বপ্রথম পাশে এসে দাঁড়াই এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমার অপারেশর ও চিকিৎসা বাবদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা ও তাদের সার্বিক প্রচেষ্টা ও সহযোগীতায় আমি আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি।

এলাকার সূধীসমাজগণ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত দেখে আসছি পউস নামের একটি সামাজিক সংগঠন অসহায়দের চিকিৎসায় আংশিক ও সার্বিক সহযোগীতা, অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ছাগল ও আর্থিক সহযোগিতা, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগীতা, মহামারী করোনা ভাইরাসের সময় জনসচেতসতা , অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে খাবার পেীঁছে দেবার মতো মহত কাজ করে আসতেছে। আমরা আনন্দিত পত্নীতলার বুকে এমন একটি অরাজতৈক সামাজিক সংগঠন পাওয়াই।

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা সমিতি ( পউস ) এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো; হাবিব সাত্তি জানান, ২০০২ সালে এমন একটি সামাজিক সংগঠন তৈরী করার স্বপ্ন দেখি। যার যাত্রা পত্নীতলার ৬-৭ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেপেটারীয়া হল রুম থেকে শুরু করা হয়। সেই সময় সার্বিক সহযোগীতা ও সরাসরি নেতৃত্ব দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান। স্যারকেই আমরা আমাদের পউস সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব দিই। ২০০৮ সালে দুইজন গরীব শিক্ষাথীদের ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আমরা আমাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিই। আমরা কিছুদিন আগে ব্রেণ টিউমার অপারেশনে একজন কে ৪৫ হাজার টাকা, অন্যান্য অপারেশন ও বিভিন্ন চিকিৎসা বাবদ ২০-২৫ জনকে ১০-১৫ হাজার করে অর্থ দিয়ে সহযোগীতা, অস্বচ্ছল ১৮ পরিবারকে ছাগল দিয়ে সহযোগীতা, মহামারী করোনা ভাইরাসে এক হাজার পরিবারকে ত্রাণ দিয়ে সহযোগীতা, ৪০ জন গরীব শিক্ষাথীদেকে মাসিক দুই হাজার অর্ত দিয়ে সহযোগীতাসহ বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কাজ করে আসতেছে পউস।আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি আমাদের এই সামাজিক সংগঠনটি যেন আজীবন মানব কল্যাণে আসতে পারে।

 

সব খবর