ঢাকা, রবিবার, ২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি, দুপুর ১:০৬
বাংলা বাংলা English English

গম রফতানি নিষিদ্ধ করল ভারত


আকস্মিকভাবে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি ঘোষণার বরাতে দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি এ খবর দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গম রফতানিকারক দেশ ভারত। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর খাদ্যশস্যটির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন দেশ ভারতের ওপর নির্ভর করে আসছিল।

কিন্তু দেশের ভেতরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পণ্যটির রফতানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার দিন শেষে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার আগে যেসব ঋণপত্র ইস্যু করা হয়েছিল, কেবল তাদের চালানই জাহাজে উঠবে।

ভারতের পররাষ্ট্র বাণিজ্য পরিদফতর বলছে, কোনো দেশ যদি অনুরোধ করে, তবে আমরা কেবল সেই দেশে গম রফতানি করব। নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা সামাল দিতে ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোকে সহায়তা করতে সরকার সিদ্ধান্তটি নিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে ব্যাপক দাবদাহে ভারতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লাগাম ধরতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ রয়েছে।

এ মাসের শুরুতে ভারতের ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছিল, গম রফতানির লাগাম টানার কোনো ইচ্ছা ভারতের নেই। কারণ এখানে খাদ্যপণ্যটির যথেষ্ট মজুত আছে। এ বছরে এক কোটি টন গম রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ভারত।

কিন্তু দেশটি এবার উল্টো সিদ্ধান্তই নিয়েছে। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বে খাদ্যশস্যের মূল্য হু হু করে বেড়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে এশিয়া ও আফ্রিকার দারিদ্র্যরা বিপাকে পড়ে যাবেন। তাদের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। একটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কোম্পানির মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক সিদ্ধান্ত। দুই-তিন মাস পর রফতানির লাগাম টানা হতে পারে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম। কিন্তু মূল্যস্ফীতির সংখ্যা সরকারকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, যে কারণে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য ভারতের খুচরা বাজারের মুদ্রাস্ফীতি এপ্রিলে গেল আট বছরের মধ্যে চূড়ায় নিয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের উচিত ছিল সুদের হার বাড়ানো। কিন্তু তা করা হয়নি।

ভারতে গমের মূল্য রেকর্ড ছুঁয়েছে। কোনো কোনো বাজারে প্রতি টন গম ২৫ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়েছে। যদিও সরকার ২০ হাজার রুপি মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

মার্চে ভারতে খুচরা পণ্যে মুদ্রাস্ফীতি সাত শতাংশ বেড়েছে। গেল সতেরো মাসের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। এতে খাদ্যমূল্য অভাবনীয় বেড়েছে—আগের বছরের চেয়ে সাত দশমিক সাত শতাংশ।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে খাদ্য, জ্বালানি ও সারের মূল্য। অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্বের বহু দেশ।

ব্যাপক রফতানি আয় সত্ত্বেও তাতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হচ্ছে সরকারগুলোকে। গেল বছরে সার রফতানিতে বিধিনিষেধ দিয়েছিল চীন। কিন্তু এবার দেশটির রফতানিতে হিড়িক পড়েছে। আবার ভোজ্যতেল উৎপাদনের নেতৃত্ব দেওয়া ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো কিছু দেশ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

গম, ভুট্টা ও বার্লির দাম বাড়ায় ভূমিকা রাখছে খাদ্যশস্যের মূল্যস্ফীতি। এতে রুটি, পোল্ট্রি, দুধ থেকে শুরু করে বিস্কুট ও বিয়ারের দামেও প্রভাব ফেলছে। হঠাৎ করেই ভোক্তারা বড় ধরনের খরচের মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভোজ্যতেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। হায়দরাবাদভিত্তিক কৃষিপণ্য সরবরাহকারী ‘আওয়ার ফুডের’ প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরশাদ পেরওয়াজ বলেন, ভোক্তা চাহিদা না-কমলে কৃষিপণ্যের খুচরা বাজারেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে। এরআগে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালেও খাদ্যমূল্য বেড়েছিল। তখন চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল, পাশাপাশি কমে গিয়েছিল সরবরাহ। বর্তমানে সামগ্রিক চাহিদা দৃশ্যত দুর্বল।

সব খবর