ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি, বিকাল ৪:৫৬
বাংলা বাংলা English English

বৃহস্পতিবার, ৭ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কোথাও সাঁতার, কোথাও কোমর পানিতে রাস্তা পারাপার


পাহাড়ি ঢল আর অব্যাহত ভারিবর্ষণে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে নেত্রকোনা জেলার বন্যা পরিস্থিতি। কলমাকান্দা উপজেলার সঙ্গে সদর এবং অন্যান্য উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিচ্ছিন্ন। ভেসে যাওয়া বাড়ি-ঘরের মানুষ ছুটছেন নেত্রকোনা ময়মনসিংহের দিকে।

কলমাকান্দার সদর ইউনিয়নের বাহাদুরকান্দা, ডুবিয়ারকোনাসহ বেশ কিছু এলাকার মানুষ বাড়ি ছেড়ে শিশুদের নিয়ে বৃষ্টিতেই রওয়ানা হয়েছেন আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। কলমাকান্দা থেকে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি ১৫ থেকে ২০টি স্থানে ডুবে মানুষ কোমর পানি এবং অনেক জায়গায় সাঁতরে পার হচ্ছেন।

অন্যদিকে ঢলে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার অতিথপুর ইসলামপুর এলাকায় ৩৪ নাম্বার রেল ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে সকাল থেকে।

শনিবার (১৮ জুন) সকালে নেত্রকোনা স্টেশন মাস্টার নাজমুল হক ও বারহাট্টা স্টেশন মাস্টার গোলাম রব্বানী জানান, মোহনগঞ্জ নেত্রকোনা ময়মনসিংহের রেলসড়কের ৩৪নং ব্রিজটি ঢলের তোরে ভেঙে যায়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরে রেলসড়ক। যে কারণে মোহনগঞ্জ থেকে হাওর এক্সপ্রেস নামের আন্তঃনগর ট্রেনটি ছেড়ে আসতে পারেনি।

এ দিকে ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জগামী লোকাল ২৬২ ট্রেনটি বারহাট্টা পর্যন্ত এসে থেমে যায়।

 

সরেজমিনে কলমাকান্দা গিয়ে দেখা গেছে, দিনভর বৃষ্টি। তার ওপর পাহাড়ি ঢল। সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে ঢুকছে পানি। সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ছাড়াও বারহাট্টা, আটপাড়াসহ মোট ৬ উপজেলার ৩৯ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। যদিও জেলা প্রশাসন বলছে ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। কলমাকান্দা উপজেলার দুই লক্ষাধিক জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির অভাবও রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে নানা জায়গায় ভাঙা থাকায় ঢলের পানিতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটি ভালো থাকলে গাড়ি চলাচল করলে ভোগান্তি কিছুটা কম হতো বলেও জানান তারা।

তবে গরু, ছাগলগুলো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। মেইন সড়কের উঁচু স্থানগুলোতে তাদের গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে ধান নিয়েও অবস্থান নিচ্ছেন সড়কের ব্রিজ এবং উঁচু স্থানে। তবে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন ভুক্তভোগীদের।

সব খবর