ঢাকা, বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৪:৪২
বাংলা বাংলা English English

বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব শরণার্থী দিবস


আজ (২০ জুন) বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতি বছর এ দিনে বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের অমানবিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতাদের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে শরণার্থী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘নিরাপত্তা খোঁজার অধিকার’।

যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, চরমপন্থা, দারিদ্র্য , দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট; প্রভৃতি ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন শরণার্থীর সংখ্যাও বেড়েই চলছে। বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এ সংখ্যা ব্যাপকহারে বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

আর এমন বিরূপ পরিবেশেই বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় ইউএনএইচসিআর প্রতি বছর ২০ জুন দিবসটি পালন করে থাকে।

গত দুই বছর মহামারির প্রকোপে বিশ্বে দিবসটি তেমন একটা পালন করা হয়নি। তবে এবছর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় দিবসটি পালনের নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বার্ষিক প্রতিবেদন গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ বছর ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দ্রুত ও বিপুল সংখ্যায় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি আফ্রিকা থেকে আফগানিস্তানসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের পরিস্থিতির কারণে নাটকীয়ভাবে সংখ্যাটি এখন ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

সারা বিশ্বের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি (৬৯ শতাংশ) শরণার্থী এসেছে পাঁচটি দেশ থেকে। দেশগুলো হচ্ছে সিরিয়া (৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন), ভেনেজুয়েলা (৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন), আফগানিস্তান (২ দশমিক ৭ মিলিয়ন), দক্ষিন সুদান (২ দশমিক ৪ মিলিয়ন) ও মিয়ানমার (১ দশমিক ২ মিলিয়ন)।

গত বছরের শেষ পর্যন্ত যে ১০টি দেশ প্রতিবেশী দেশের লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছে, ওই তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম স্থানে।

বাংলাদেশে ২০১৭ সালের আগে অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সেনাচৌকিতে জঙ্গি হামলাকে অজুহাত দেখিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর থেকে পরের কয়েক মাসে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ লাখ নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে বাংলাদেশে। এদের মধ্যে ভাষানচরে এক লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে সরকার। যেখানে তারা উন্নত সুবিধা পাচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন প্রতি ৭৭ জনের একজন শরণার্থী। গত এক দশক ধরে প্রতি বছর শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সালের শেষে বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৯ কোটি ৯৩ লাখে।

সব খবর