ঢাকা, বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৩:০০
বাংলা বাংলা English English

বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বুক পানিতে গামলায় করে নবজাতককে বাঁচালেন বাবা


যেদিকে চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। কোনটা রাস্তা, আর কোনটা নদী বুঝে ওঠা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোমর সমান পানি তো, কোথাও আবার বুক এবং গলা সমান। গত কয়েক দিন ধরে আসামের সব জায়গায় একই চিত্র ধরা পড়েছে। এ অবস্থায় সেখান থেকে ধরা পড়ল এক হৃদয়বিদারক ছবি।

আসামের শিলচরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বুকসমান পানি। আসবাবপত্র সরানোর সুযোগ হয়নি। অনেকেই প্রাণে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এমন দুঃসময়ে সেখানকার একট ঘর থেকে সদ্যোজাত এক শিশুকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি হৃদয়বিদারক ছবি সবার নজর কেড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে শশাঙ্ক চক্রবর্তী নামে একজন এ ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। ক্যাপশনে শশাঙ্ক লিখেছেন, ‘শিলচরে বন্যার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এক টুকরো মন ছুঁয়ে যাওয়া ছবি। এই দৃশ্যই শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে যমুনা পার করার বাসুদেবের সেই দৃশ্যকে যেন চোখের সামনে ভাসিয়ে তুলছে।’

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এদিকে, ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সোমবার (২০ জুন) একদিনে রাজ্যটিতে মারা গেছে আরও অন্তত ১১ জন। এ নিয়ে আসামের চলমান বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২। বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন রাজ্যের ৩২ জেলার প্রায় ৪৭ লাখ বাসিন্দা। প্লাবিত হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার গ্রাম। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

যতই সময় গড়াচ্ছে, ততই যেন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে আসামের বন্যা পরিস্থিতি। সোমবারও (২০ জুন) রাজ্যটিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে ভূমিধস। এতে একদিনেই বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এ বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন রাজ্যের ৩৫টির মধ্যে ৩২টি জেলার ৪৭ লাখ বাসিন্দা। প্লাবিত হয়েছে ৫ হাজার ৪০০টিরও বেশি গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, ভেসে গেছে গবাদিপশু, নষ্ট হয়েছে হেক্টরের পর হেক্টর ফসলি জমি। জীবন বাঁচাতে এরই মধ্যে ৬১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।

সব খবর