ঢাকা, বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৩:২৭
বাংলা বাংলা English English

বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘বন্যায় পাশে নেই কেউ’


ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদী এবং কাজলা বিলের পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে বিজয়নগর উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রাম। এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণের তীব্র সংকট।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস নদীর পূর্বাঞ্চলের বিজয়নগর উপজেলার দত্তখোলা, চর ইসলামপুর, মনিপুর, পত্তন, লক্ষ্মীমোড়া, চান্দুরা, কালিসিমাসহ অন্তত ১০টি গ্রাম। এতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও রাস্তাঘাট। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পানিবন্দি অবস্থায় কর্মহীন কয়েক হাজার মানুষ।

এক সপ্তাহ ধরে এমন দুর্ভোগের মধ্যে থাকলেও সরকারি বা বেসরকারি কোনো ধরনের ত্রাণসহায়তা পৌঁছেনি দুর্গত এলাকায়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ।

মনিপুর এলাকার নায়েব মিয়া বলেন, ‘গরু আছে কয়েকটা, ঘরে বাচ্চা আছে, তাদের নিয়ে খুব বেশি সমস্যায় আছি। রান্নাঘর, টিউবওয়েল, বাথরুম সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খুব সমস্যার মধ্যে আছি। গরু রাখার জায়গা নেই। অন্য এলাকায় নিয়ে গরু রেখে আসছি। এভাবে যদি পানি বাড়তে থাকলে আমাদের বাড়িছাড়া হতে হবে।’

 

চান্দুরা ইউনিয়নের কালিসীমা গ্রামের জয়নাল ইসলাম বলেন, ‘খুব অসহায় অবস্থায় আছি আমরা। বাড়িঘর পানির নিচে চলে যাচ্ছে। মাছের খামার, পুকুরের মাছ সবকিছু ভেসে গেছে। আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। কষ্টের বিষয় হলো এখন পর্যন্ত আমাদের কেউ খোঁজ নিতে আসেনি। সরকারি লোক বা সমাজের কেউ এসে জানতেও চাইলো না আমরা কীভাবে আছি। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা এসে কত কথা বলে। এখন আমাদের পাশে কেউ নেই।’

আমেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিদিন আস্তে আস্তে পানি বাড়ছে। বাড়ির উঠানে কোমরপানি। বাড়িঘর থেকে বের হতে পারছি না। নামাজ পড়তে পারি না, বাথরুমে যেতে পারি না, রান্না করতেও পারি না। সব জায়গায় শুধু পানি আর পানি। ঘরের ভেতরে কোনো রকম রান্না করে খেয়ে বেঁচে আছি। এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি।’

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। গতকাল এ বিষয়ে আমরা মিটিং করেছি। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা ঘুরে দেখবেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া আমরা কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রেখেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছে।’

এদিকে এখন পর্যন্ত জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। শেষ খবর পর্যন্ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

 

সব খবর