ঢাকা, বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৩ হিজরি, রাত ৪:০৯
বাংলা বাংলা English English

বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বপ্নের পদ্মা সেতু যেন আলাদিনের চেরাগ


দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে আশীর্বাদের আরেক নাম পদ্মা সেতু। এ যেন এক আলাদিনের চেরাগ, যা ভাগ্য বদলে দেবে অন্তত ২১ জেলার মানুষের। এমনটাই মনে করছে সারা দেশের মানুষ।

জানা যায়, আগামী ২৫ জুন উদ্বোধনের পর খুলে দেয়া হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এরই মধ্যে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতু বিভাগের কাছে পদ্মা সেতুর কাজ সমাপ্ত শেষে হস্তান্তরও করেছে।

মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় পদ্মা সেতুর জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভাকে ঘিরে সেতুর আদলেই তৈরি হচ্ছে মঞ্চ। নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই খবরে পুরো মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলে সাজ সাজ রব। পদ্মা সেতু চালুকে ঘিরে তৃণমূল মানুষ দেখছে নানান সম্ভাবনার গল্প, ভাবছে আত্মকর্মসংস্থান নিয়ে। বেকারত্ব দূর হলে, হবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন–এমনটাই মনে করছেন তারা।

বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘বলতে বলতে আজ স্বপ্ন সেতুর বাস্তবায়ন হয়ে গেল। আমাদের সবার কাছে এটি ছিল আলাদিনের চেরাগ। সত্যিই দক্ষিণাঞ্চলবাসী ভাগ্যবান। এই সেতু চালুর ফলে অল্প সময়ে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি ঢাকা পৌঁছানো যাবে। আমরা সবাই দারুণ খুশি।’

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি সাকিব হাসান বলেন, ‘ওষুধ ব্যবসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এই পদ্মা সেতু। জরুরি কোনো ওষুধের প্রয়োজন হলে এক সপ্তাহ পরে তা মাদারীপুরে পাওয়া যেত। এখন আশা করছি, অর্ডার করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি পাওয়া যাবে।’

মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির নাট্য প্রশিক্ষক আজম কামাল বলেন, ‘মাদারীপুর থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় নাটক করতে যেতে হলে ঘাট এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ভোগান্তি হতো। এবার ভোগান্তি আর দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।’

মাদারীপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিশ্লেষণ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ফেরিঘাটে ভোগান্তির কারণে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত কম করা হতো। এখন দ্রুত পৌঁছানো যাবে। মাদারীপুর থেকে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় ঢাকা যাওয়া যাবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প সব ক্ষেত্রেই উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ।’

 

মাদারীপুর জেলা কারাগারের মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকার বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে রাজধানী ঢাকার বড় বড় চিকিৎসক বিভিন্ন জেলায় এসে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবেন। চাইলে ভোরে রওনা দিয়ে চিকিৎসাসেবা শেষে রাতেই চিকিৎসকরা ঢাকায় ফিরে যেতে পারবেন। এতে রোগী ও চিকিৎসক উভয়ে লাভবান হবেন।

মাদারীপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য আঞ্জুমান কবির জুলিয়া বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর ফলে নতুন এক সম্ভাবনার স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলায় নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি হবেন। এ ছাড়া পদ্মার দুই পাড়ে শিল্প-কলকারখানা তৈরি হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এতে অনেকের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাবে। হবে অর্থনৈতিক পরিবর্তনও। মোটকথা, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে আশীর্বাদ হয়েই থাকবে।

 

সব খবর