ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, সন্ধ্যা ৬:৫৮
বাংলা বাংলা English English

বৃহস্পতিবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খুনী রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর জন্য মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা


ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২২ : জাতির পিতার হত্যাকান্ডের দায়ে দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনী রাশেদ চৌধুরীকে বিচারের মুখোমুখি করতে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য মার্কিন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বীরবিক্রম।
জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী পালনের অংশ হিসেবে ১৫ আগস্ট বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি উপদেষ্টা এ আহবান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীর প্রত্যার্পন :বাংলাদেশ- ইউএস সম্পর্কের দীর্ঘ অমীমাংসিত ইস্যূ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ ক্যারোলিনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. এবিএম নাসির।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনির যুক্তরাষ্ট্রে অব্যাহত অবস্থান দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক এবং রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যর্পণ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে খুনি রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, সেমিনার আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বঙ্গবন্ধুর জঘন্য খুনিকে প্রত্যর্পণের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে মার্কিন জনগণ এবং বাংলাদেশী-আমেরিকান প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপকতর সচেতনতা তৈরি করা।
অধ্যাপক ড. এবিএম নাসির তার মূল প্রবন্ধে বলেন, খুনি রাশেদ চৌধুরী তিন শিশু, দুই গর্ভবতী নারী ও অন্যান্য নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছেন। তিনি অবিলম্বে রাশেদ চৌধুরীকে আটক ও প্রত্যর্পণের জন্য মার্কিন সরকারের কাছে দাবি জানান।
ডেপুটি চিফ অব মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার সেমিনার সঞ্চালনা করেন। বিশিষ্ট অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, বিশিষ্ট কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, প্রখ্যাত সংবাদ পাঠক সরকার কবির উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরী, দূতাবাসের কাউন্সেলর আরিফা রহমান রুমা এবং মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: শফিকুল আজম আজাদ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে নির্মমভাবে নিহত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দূতাবাস বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করে।
রাষ্ট্রদূত মো: শহিদুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল রাষ্ট্রদূতের জাতির পিতার আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন। ১৭ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন প্রতিরক্ষা অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: শাহেদুল ইসলাম, মিনিস্টার (প্রেস) এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল-১) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং মিনিস্টার (পলিটিক্যাল-২) মো: রাশেদুজ্জামান।
কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং কাউন্সেলর ও হেড অব চ্যান্সারি মো: মাহমুদুল ইসলাম যথাক্রমে বিকেল ও সকালের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

সব খবর