ঢাকা, শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি, সকাল ৯:২১
বাংলা বাংলা English English

সাংবাদিকদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেই


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে নানান সংগঠন কাজ করলেও বাংলাদেশের চিত্র আলাদা। এখানে নানান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিকরা। তবে দেশে সাংবাদিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় একাধিক সংগঠন গড়ে উঠলেও সেগুলো তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে বা নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবি আদায়ে অতটা তৎপর নয়। সময়ের সঙ্গে বুঝে চলতে এবং সময়ের সঙ্গে সাংবাদিকতাকে টেনে নিতে অনেক কিছু করার আছে বটে, তবে সবার আগে দরকার সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের বিচার করা। নির্যাতন বা হামলার মতো বড় ঘটনা ঘটলে থানায় বা আদালতে মামলা করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, হামলাকারীরা সরকারি প্রতিষ্ঠান, দলের বা প্রভাবশালী হওয়ায় সেসব মামলায় বিচার বেশিদূর এগোয় না। সাংবাদিক নির্যাতন ও সাংবাদিক হত্যার যথাযথ বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। হামলা-নির্যাতন সাংবাদিকতা পেশাকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে এবং তথ্যপ্রকাশে বাধা দেয়ার মধ্য দিয়ে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকেও খর্ব করছে। ইউনেসকো বলেছে, সাংবাদিক হত্যার বিভিন্ন ঘটনায় বিচারহীনতার হার ৮৬ শতাংশ। এই উচ্চহার অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে ইউনেসকো। গণমাধ্যম ঝুঁকির মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে। আজও সাগর-রুনির হত্যার বিচার হয়নি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ ও ২০২১ সাল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১১৭ জন সাংবাদিক নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য হত্যার শিকার হয়েছেন। আর ৯১ জন সাংবাদিক কর্মরত না থাকা অবস্থায় নিহত হন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি শিশুসন্তানদের সামনেও কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের সূত্রমতে, ১৯৯২ সাল থেকে, হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩০০-র বেশি সাংবাদিক। তাঁদের মধ্যে ৭০০-র বেশি ক্ষেত্রে এই হত্যার কোনো বিচার হয়নি। হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আর এই পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে হামলা ও হত্যা; রেকর্ড পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো হিমবাহের ওপরের অংশটুকু মাত্র। এর বাইরে মারধর, অপহরণ, কারাবন্দি এবং আরও অনেক ধরনের হুমকির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এগুলোও সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। হুমকিগুলো অনেক দিক থেকে আসে। তাই দেশের গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিক নির্যাতন রোধে এখনই সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সব খবর