ঢাকা, বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, সকাল ১০:১৬
বাংলা বাংলা English English

হত্যা-হামলা-মামলা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন


চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে ১৫০ জন সাংবাদিক খুন, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, হুমকিসহ নানাভাবে আক্রান্ত ও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে জানুয়ারি ও জুন মাসে খুন হয়েছেন ২ সাংবাদিক। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের। মার্চ মাসে সর্বাধিক ৪০ জন সাংবাদিক নিপীড়নের মুখে পড়েন। অন্য ৫ মাসের মধ্যে জানুয়ারিতে ১৮, ফেব্রুয়ারিতে ২৫, এপ্রিলে ২৪ এবং মে মাসে ১৪ জন এবং জুন মাসে ২৯ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নিগৃহীত হয়েছেন। শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকসহ ডিজিটাল আইনে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন এদের অনেকে। গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটতে হয়েছে ৭ জনকে। দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ও শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে নজর রেখে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মনিটরিং কমিটি সাংবাদিক নিপীড়নের এ চিত্র পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করা এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার কঠিন কাজটি করে থাকেন সংবাদকর্মীরা। পেশাগত কারণে একজন সাংবাদিককে কারও না কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। এটা একজন সংবাদকর্মীর দায়বদ্ধতা। সংবাদ মাধ্যমের এই কর্তব্য ও নিষ্ঠাই সংবাদকর্মীকে বারবার দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখোমুখি। সংবাদকর্মীদের এমন জীবন সংশয়ের শঙ্কা সংবাদমাধ্যমকে দায়সারা অবস্থার ভেতর ছেড়ে দেয়। যা কখনোই একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বৈশিষ্ট্য বহন করে না। সংবাদ মাধ্যম একটা দেশের সার্বিক মুখপাত্র। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকগণ যেন নিপীড়নের শিকার না হয় সেই নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা থাকা একটা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য জরুরি। কেননা সংবাদকর্মীরা দেশের সকল শ্রেণির নাগরিকের মুখপাত্র। একটা রাষ্ট্রের সরকারের পক্ষে সম্পূর্ণ দেশের আনাচে-কানাচের সকল অসংলগ্ন বিষয় অবগত থাকা সম্ভব নয়। সংবাদকর্মীদের মূল কাজ হলো সেইসব বিষয় রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের এবং সরকারের দৃষ্টির সামনে তুলে ধরা। সকল প্রকার ঝুঁকির মুখে তারা সেই দায়িত্বে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। যা থেকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি হয়। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়। এটা গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য এটা অবশ্যই অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থায় সমস্যা সামনে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে সরকারেও সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। এটা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রেরও বৈশিষ্ট্য। কিন্তু বারবার হয়রান হচ্ছে সংবাদকর্মী। যা কোনোভাবেই একটা স্বাধীন দেশের প্রেক্ষিতে কাম্য নয়। এ অবস্থা উত্তরণের জন্য সংবাদকর্মীদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সংস্কার প্রয়োজন বিচার ব্যবস্থারও। বিগত সময়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্ত প্রকার নৃশংস হত্যা এবং হত্যার চেষ্টার যথাযথ বিচার হওয়া দরকার। দীর্ঘ সূত্রতার জের ধরে প্রতিবার পার পেয়ে যাচ্ছে খুনি এবং অপরাধীরা। আইনের অনৈতিক ফাঁক গলে বেরিয়ে নিরাপদে ঘটিয়ে যাচ্ছে অন্যয় অপকর্ম। কোনো হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। ফলে বেড়ে চলছে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যা। গণমাধ্যমের স্বাধীন গতির জন্য রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সব খবর