ঢাকা, বুধবার, ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, সকাল ৯:২২
বাংলা বাংলা English English

দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছে না


দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি বাড়লেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছে না। আর দক্ষ কর্মী না হওয়ায় বাংলাদেশী অভিবাসীদের মাসিক আয় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। একজন বাংলাদেশী অভিবাসীর গড় মাসিক আয় ২০৩ দশমিক ৩৩ ডলার। অন্যদিকে ফিলিপাইনের একজন অভিবাসীর গড় মাসিক আয় ৫৬৪ দশমিক শূন্য ১ ডলার। বিগত ১৯৯১ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ৬ হাজার ৪৬১ জনকে প্রবাসে গেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৭২ শতাংশ দক্ষ, ১৪ দশমিক ৯৯ আংশিক দক্ষ এবং ৪৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ অদক্ষ জনশক্তি। বিগত চার দশকে সরকারকে দক্ষ জনশক্তির তুলনায় অদক্ষ জনশক্তিই বেশি রপ্তানি করতে হয়েছে। ফলে সংখ্যার দিক থেকে রপ্তানি বাড়লেও হার অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিমাণ বাড়ছেই না। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দক্ষতা অর্জনে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের অনীহা, জাতীয় শিক্ষানীতির দুর্বলতা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকা, জনসচেতনতা ও প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে সরকারের যথাযথ পরিকল্পনার অভাবেই জনশক্তিকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বিগত ১৯৯১ সালে ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৬ জন জনশক্তি প্রেরণ করে বাংলাদেশ। তার মধ্যে ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ দক্ষ, ২২ দশমিক ১৫ আংশিক দক্ষ এবং ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল অদক্ষ শ্রমিক। কিছুটা ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে তিন দশক ধরে কর্মী পাঠানোর সমান্তরাল হার চলে। কিন্তু ২০২১ সালে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জন কর্মী বিদেশ প্রেরণ করা হলেও তার বিপরীতে দক্ষ কর্মী যায় ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, আংশিক দক্ষ কর্মী যায় ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। সে বছর বিদেশে পাঠানো মোট কর্মীর ৭৩ দশমিক ৫৬ শতাংশই ছিল অদক্ষ। অন্যান্য বছরের মধ্যে ১৯৯৬ সালে ৩০ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ১৬ দশমিক ৩৮ আংশিক দক্ষ এবং ৫১ দশমিক ৭৩ শতাংশ অদক্ষ। ২০০১ সালে ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ দক্ষ, ১৬ দশমিক ২৩ আংশিক দক্ষ এবং ৫৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি হয়। ২০০৬ সালে পাঠানো কর্মীর মধ্যে ৩০ দশমিক ২৬ শতাংশ দক্ষ, ৮ দশমিক ৯০ আংশিক দক্ষ এবং ৫৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি হয়। ২০১১ সালে দক্ষ শ্রমিকের হার কিছুটা বেড়ে ৪০ দশমিক ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। এ বছর আংশিক দক্ষ শ্রমিকের পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং অদক্ষ শ্রমিক যায় ৫৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ২০১৬ সালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। এ বছর ৪২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ দক্ষ, ১৫ দশমিক ৮২ আংশিক দক্ষ এবং ৪০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ধাক্কা তৈরি হয় ২০২১ সালে। এ বছর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অদক্ষ শ্রমিক প্রবাসী হয়েছেন। সূত্র জানায়, জাপান, চীন বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চায়। কিন্তু ভাষা না জানায় এবং দক্ষতার অভাবে সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আর যারা বিদেশ যায় তাদের অধিকাংশই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে চায় না। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকে থেকে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, ক্যাম্পেইন করা হয়, লিফলেট বিতরণ করা হয়, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানো হয়। কিন্তু বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকরা প্রশিক্ষণে আগ্রহী হচ্ছে না। সৌদি আরবে আমাদের ১৫-২০ লাখের বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক থাকে। কিন্তু সে তুলনায় আশানুরূপ রেমিট্যান্স নেই। কারণ এদেশের শ্রমিকদের বড় একটি অংশই অদক্ষ। ফলে এখান থেকে বিদেশ যেতে বেশ অর্থ ব্যয় হয়, তার বিপরীতে আয় হয় অনেক কম। শ্রমিকরা অদক্ষ হওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। বিপরীতে দক্ষ কর্মীর গুরুত্ব সবসময় বেশি। দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে কয়েক গুণ বেশি আয় করা যায়। সূত্র আরো জানায়, বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিএমইটির আগে ৭০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ছিল। সম্প্রতি আরো ৪০টি যোগ হলো। সবগুলোয় একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও মাত্র ৪০ হাজার প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব। এর বিপরীতে চাহিদা বিপুল। আশা করা যায় সামনের বছরগুলোয় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মীদের বিদেশ পাঠাতে পারবে বিএমইটি।

সব খবর